Trending Now

মনুষ্যত্বের জয় হোক

 

পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বর্ণবৈষম্যের জন্ম পৃথিবীতে মানবজাতি সৃষ্টির প্রায় পর থেকেই? বৈষম্যের কারণে বিশ্বে ভয়াবহ যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটে গেছে। স্বার্থের কাছে বারবার পরাজিত হতে হয়েছে মনুষ্যত্বকে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের অপশাসন, নারীকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভোগ্যবস্তু বানানো (পরাজিত অংশের), ধর্মীয় বৈষম্য, বিভিন্ন যুদ্ধে শিশুদের ওপর চালানো অমানবিক কার্যক্রমসহ অসংখ্য ঘটনা এর উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমবেশি আজও চলছে পৃথিবীতে। বদলেছে বৈষম্যের মাত্রা, পরিবর্তিত হয়েছে প্রেক্ষাপট। ফলে গড়ে উঠেছে নানা মানবাধিকার সংস্থা।

নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, চে গুয়েভারা, উপমহাদেশের মহাত্মা গান্ধী, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেদের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু ব্যয় করেছেন বৈষম্য রোধে? মানুষকে মানুষ জ্ঞান করার অসীম ক্ষমতা তাদের ছিল বলেই তারা হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা, নিপীড়িত মানুষের মুক্তিদাতা। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেল খেটেছেন শুধু কৃষাঙ্গদের মানুষ হিসাবে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। দিনশেষে পরেছেন সাফল্যের মালা। মার্টিন লুথার কিংয়ের গল্পটাও অভিন্ন নয়; নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার লক্ষ্য ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার রক্ষার জন্য জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়েছেন কারাগারে। অথচ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সফল হওয়ার পর পাঁচ বছরও সময় পাননি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের। জনগণকে স্বাধীন হওয়ার পরও সইতে হয়েছে পরাধীনের মতো আচরণ। আবারো লুণ্ঠিত হয়েছে অধিকার, সৃষ্টি হয়েছে বৈষম্য।

প্রশ্ন হলো, বর্ণবৈষম্য রোধে আইনের প্রয়োগ কতটা হচ্ছে? মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রণীত আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। অবশ্যই এটা একটি ইতিবাচক দিক। তারপরও কি ঘটছে না বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড? প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। কারণটা খুব সোজা? বৈষম্য সৃষ্টি করা হয় স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে। হতে পারে সেটা সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক। এ অবস্থার অবসানে বদলাতে হবে মানুষের মানসিকতা। সুন্দর, সমৃদ্ধ পৃথিবী বা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠতে পারে গণমানুষের সচেতনতার মাধ্যমেই। মহানায়করা জনগণকে সুপথে চালিত করার পথিকৃৎ মাত্র।

বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হেরোল লাস্কির মতে, মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের (১৯৪৮-এর ১০ ডিসেম্বর গৃহীত) কথা; যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, পেশা, গোত্র নির্বিশেষে সবার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এর সঠিক বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশে প্রয়োজন যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন। সর্বোপরি নিশ্চিত করতে হবে সুশিক্ষা।

About STAR CHANNEL

Check Also

কর্মক্ষেত্রে যৌন সহিংসতা : আমাদের করণীয়

স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *