Trending Now

গাজীপুরে দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেফতার ২

গাজীপুরে মুক্তিপণের দাবিতে দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ একটি শিশুর লাশ ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে উদ্ধার করলেও অপর শিশুর লাশ উদ্ধারের জন্য গাজীপুরে তুরাগ নদের শাখা স্থানীয় বালু নদীতে তল্লাসী চালানো হচ্ছে। শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।

এ ব্যাপারে রবিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুটি ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে জিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিন বছরের ছেলে শিশু নিহাদ গাছা থানার পূর্ব কলমেশ^র থেকে অপহরণ হয়। এ ঘটনায় অপহৃত শিশুর বাবা গার্মেন্ট শ্রমিক হানিফ আলী গাছা থানায় মামলা করেন। অপহরণের তিন দিন পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর থানাধীন তিনতালা বিল্ডিংয়ের পানির ট্যাংকির ভেতর থেকে নিহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে গত ৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাছা থানাধীন পূর্ব কলমেশ্বর এ্যারাইভ্যাল গার্মেন্টের পেছন হতে সুমাইয়া আক্তার সুমু ওরফে রুবা নামে দুই বছর আট মাসের শিশু অপহৃত হয়। অপহরণকারীরা শিশু রুবার বাবার কাছে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবী করে। এ ঘটনায়ও গাছা থানায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য আলী আকবরকে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। আকবরের দেয়া তথ্যে তার খালাতো ভাই আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা দুটি অপহরণের দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয় পুলিশের কাছে। গ্রেফতারকৃত আলী আকবর (২৪) শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার পুটিয়া গ্রামের মৃত আলী জব্বার সর্দারের ছেলে, সে গাজীপুর মহানগরীর হায়দরাবাদ আবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অপর গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন (৩০) গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

 

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের আশায় শিশু দুটিকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আলী আকবরকে ৫ দিনের রিমাÐে এনে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আলী আকবর জানিয়েছেন, তার খালাতো ভাই আনোয়ার হোসেনের সাথে পরিকল্পনা করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিশু দু’টিকে অপহরণ করেছিল। আলী আকবরের স্বীকারোক্তি মতে শিশু সুমাইয়ার পরিধেয় বস্ত্র তার ভাড়া বাসা ও শিশু নিহাদের পরিধেয় বস্ত্র তার ভাড়া বাসার পাশের ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। শিশুদের পরিবারের সদস্যরা শিশুদের পরিধেয় বস্ত্র সনাক্ত করেছে।

গাছা থানার ওসি মো: ইসমাইল হোসেন জানান, তারা শিশু রুবার লাশ এখনো সন্ধান পাননি। তাকে অপহরণ করার পর পূবাইল থানাধীন নিমতলী ব্রিজের উপর থেকে বস্তাবন্দী করে তুরাগ নদীর খালে ফেলে দেয়। লাশটি উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও স্থানীয় ডুবুরির সহযোগিতায় বালু নদীতে তল্লাশি চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এডিসি-অপরাধ (দক্ষিণ) হাসিবুল আলম, গাছা জোনের এসি আহসানুল হক, গাছা থানার অফিসার ইচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন।

About STAR CHANNEL

Check Also

চট্টগ্রামে আরও ৪১৭ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ২

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪১৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *