Trending Now

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার লাঠি খেলা

টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় ১১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মেহেদি হাসান আলিমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। এ খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।

কালক্রমে হারিয়ে যেতে বসা এ লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করে নানা বয়সের মানুষ। গ্রামীণ এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এমনটাই মনে করেন দর্শনার্থীরা।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১১নং ওয়ার্ডে মেহেদি হাসান আলীম তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় বেড়াবুচনা গ্রামের লাঠিয়ালরা দিনব্যাপী এই খেলার আয়োজন করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর।

 

গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা দেখার জন্য কাউকে হেঁটে বা ভ্যান রিক্সায় করে কোথাও যেতে হয়নি। আজ বুধবার সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত লাঠিয়ালরাই ১১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে লাঠি খেলা প্রদর্শন করেছেন।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ এ বিনোদন নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ রয়েছে। লাঠি খেলার নতুন করে কোন সংগঠন বা দল তৈরি না হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। ঢোল ও লাঠির তালে তালে নাচা-নাচি, অন্য দিকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টা সম্বলিত টান টান উত্তেজনার একটি খেলার নাম লাঠি খেলা। এ খেলা একটি ঐতিহ্যগত মার্শাল আর্ট।

মূলত ঢাকের বাজনার সাথে মার্শাল আর্ট আর লাঠি এই দুইয়ের সংমিশ্রণের নামই লাঠি খেলা। অনুশীলনকারীকে লাঠিয়াল বলা হয়। এই খেলার জন্য লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা হয়। তবে প্রতিটি লাঠিই হয় প্রায় তৈলাক্ত। প্রত্যেক খেলোয়ার তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করে। শুধুমাত্র বলিষ্ঠ যুবকেরাই এই খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

ঢাক-ঢোল আর কাঁসার ঘন্টার শব্দে চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ্যের তালে নেচে নেচে লাঠি নিয়ে নানান অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন লাঠিয়ালরা।  লাঠির কসরতের সাথে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা।

শিশু থেকে শুরু করে যুবক ও বৃদ্ধ পুরুষেরাই লাঠি খেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। লাঠিখেলার আসরে লাঠির পাশাপাশি যন্ত্র হিসেবে ঢোল, কর্নেট, ঝুনঝুনি ও বিভিন্ন প্রকার  ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও, সঙ্গীতের পাশাপাশি এ খেলার সাথে চুড়ি নৃত্য দেখানো হয়।

লাঠি খেলা বিষয়ে বেড়াবুচনা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি কেতাব আলী মাতাব্বর, ফজলু, শাহআলম ও অন্যান্য লাঠিয়ালরা জানান, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা আজ বিলুপ্ত প্রায়। আমাদের অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের লাঠিখেলা রয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উৎসব-বাংলা বর্ষবরণ, বিবাহ, মহরম, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি উপলক্ষে লাঠি খেলার আয়োজন করে থাকেন।’

বিগত দশকেও গ্রামাঞ্চলের লাঠি খেলা অল্প হলেও কিছু জায়গায় আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিল এ খেলাটি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত এ খেলা দেখার জন্য। বিভিন্ন জায়গায় মাঝে মধ্যে এ লাঠিখেলা দেখা গেলেও তা খুবই সীমিত। এ খেলাটি দিন দিন বিলুপ্তি হওয়ার কারণে এর খেলোয়ার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

জনপ্রতিনিধি, প্রবীণ ব্যক্তি ও সচেতন মহল ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের খোরাক জোগানো এইসব ঐতিহ্যবাহী খেলা ধরে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

About STAR CHANNEL

Check Also

আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি, তাতে কার কী: মাওলানা মামুনুল হক

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন,  ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *