Trending Now

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা

 

সমবায় সমিতির নামে প্রতারক চক্র কর্তৃক শ্রমজীবী মানুষের সঞ্চয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে এবার। জানা যায়, রাজধানীর কাওরান বাজারের কুলি, মিনতি, ফুটপাতের দোকানি, এমনকি ভিক্ষুকদের জমানো টাকা আত্মসাৎ করেছে এ প্রতারক চক্র।

আর এ উদ্দেশ্যে তারা কিছুদিন পরপর ভিন্ন ভিন্ন নামে সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ফাঁদে ফেলে এই শ্রমজীবী মানুষকে। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে অন্তত ১২ হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের শেষ সঞ্চয়টুকু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এসব তথ্য। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনকও বটে! এ বিষয়ে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জানা যায়, এ প্রতারক চক্রের হোতা হলেন আমীর হোসেন নামের এক পাতি রাজনৈতিক নেতা। তিনি রাজধানীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি। দলীয় পদে থাকায় তিনি একের পর এক প্রতারণা করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

তবে ইয়াবা বিক্রির সময় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি এখন জেলে রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা উদ্ধারে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। অভিযোগ আছে, এ প্রতারকদের সঙ্গে কতিপয় পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

দেশে সমবায় সমিতির নামে বেআইনিভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে মানুষের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। ইতোমধ্যে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনায় বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ধরনের অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারও নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারপরও এমন তথাকথিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, এবার তারা ফাঁদ পেতেছে নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে। বোঝা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে এই শ্রেণির মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়া হয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের জমানো টাকা দ্বিগুণ করার এবং মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের শেষ সম্বলটুকু। কারণ, তারা জানে না এ সংক্রান্ত আইন।

তারা খোঁজ নিয়ে দেখে না, যারা তাদের এ ধরনের প্রলোভন দেখিয়েছে, তাদের এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অনুমতি আছে কি না। বাস্তবতা হল, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘ব্যাংক’ হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

কিন্তু বিভিন্ন সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে আইন অমান্য করে আমানতের উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আমানত নিতে দেখা যায়। আগে এ ধরনের অনেক সমবায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের নামের শেষে বেআইনিভাবে ‘ব্যাংক’ শব্দটি ব্যবহার করত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে কঠোরতা আরোপের পর সমবায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক শব্দের ব্যবহার বন্ধ করেছে। তবে তাদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড যে বন্ধ হয়নি, আলোচ্য ঘটনাই তার প্রমাণ।

তাই আমরা মনে করি, ভুয়া সমবায় সমিতিগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সমবায় অধিদফতরকে তৎপর হতে হবে। সমবায় নামধারী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও নিতে হবে পদক্ষেপ।

About STAR CHANNEL

Check Also

কে এ নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করবে

রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *