Trending Now

হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল মেটাতে না পারায় রোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Outlaw’s hands locked in handcuffs isolated on black

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) আবহে রোজগারে টান। হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়নি। এর জন্য ফৌজদারি আদালতে মামলা করে, রোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বের করাল হাসপাতাল। মৃগীরোগে জর্জরিত ওই রোগী মানসিক ভারসাম্যহীন। স্বাভাবিকভাবে কথাই বলতে পারেন না। রোগীর প্রতি হাসপাতালের এমন আচরণ করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে।

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার আতাবাগানের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ কর্মকারের ছেলে ওই রোগী। তার একুশ বছরের ওই ছেলের নাম দুর্বার। যিনি মৃগি রোগে আক্রান্ত। মাস সাতেক আগে পেটের সমস্যা নিয়ে আনন্দপুরে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাবাবদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। জটিল একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে ওই হাসপাতাল অপারেশন করেনি। পরে ক্যানাল সার্কুলার রোডে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় দুর্বারকে। ৫ মে তার অস্ত্রোপচার হয়। রোগীর পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি করার সময় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্যাকেজে ছয় লাখ টাকা খরচ হবে। শেষমেশ সেই খরচ গিয়ে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকায়।

বাবা প্রসেনজিৎ জানান, ‘আমার ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা। করোনা আবহে লকডাউনে ব্যবসার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রোজগার নেই। বাধ্য হয়ে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে হকারি করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় হাসপাতালের মোটা বিল মেটানো সম্ভব ছিল না। কোনোরকমে ঘটি-বাটি বেঁচে ৭ লাখ টাকা মেটাতে পারেন প্রসেনজিৎ। বকেয়া থেকে যায় ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। ২৩ মে রোগী ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘পোস্ট ডেটেড’ চেক চায় হাসপাতাল। তা দিয়ে আসেন প্রসেনজিৎ। কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সেই চেক বাউন্স হয়ে যায়।

 

এরপরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে। ফৌজদারি আদালতে মামলা করে তারা। মানসিক প্রতিবন্ধী দুর্বার এবং তার বাবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর বাধ্য হয়েই স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের দ্বারস্থ হন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, ‘এখন আমাকে হকারি করতে হচ্ছে। আমার মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেলে আমাদের আত্মহত্যা করতে হবে।’

এ ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন। দুঃখ প্রকাশ করে কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‌‘দুঃখজনক ঘটনা। অবিলম্বে ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করতে বলেছি হাসপাতালকে। যে যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন, সামান্য এই কারণে কোনোভাবেই তাকে গ্রেফতার করতে পারে না পুলিশ।’

শুধু তাই নয়, বকেয়া বিলের আর এক টাকাও ওই যুবকের পরিবারকে দিতে হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। কমিশন বলেছে, যা বিল হয়েছে তা খতিয়ে দেখে আমাদের অত্যন্ত বেশি মনে হয়েছে। আর কোনো টাকা দেবে না কর্মকার পরিবার।’

About STAR CHANNEL

Check Also

বগুড়ায় অপহরণের পর টাকা না পেয়ে শিশুকে হত্যা

বগুড়ার গাবতলীতে মুক্তিপণের দাবিতে আবু হানজেলা (৬) নামের শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ পুকুরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *