Trending Now

প্রণোদনা প্যাকেজের ধীরগতি

 

করোনা মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। জানা গেছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের প্রায় অর্ধেকই পৌঁছেনি ভুক্তভোগীদের হাতে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা, কোনো কোনো ব্যাংকের আস্থাহীনতাসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ঋণ বিতরণ ও অর্থ ছাড়সহ পুরো প্রক্রিয়াকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গতিশীল করা গেলে উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারতেন, যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতো। সরকার বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে ঋণ, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ অর্থ বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও মন্ত্রণালয়কে অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা বিতরণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, মন্ত্রণালয় ও সংস্থা।

রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনার অর্থ পুরোপুরি প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের গত অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ বাকি ছিল ১১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। সিএমএমএমই’র জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়।

রফতানি খাতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৩০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ৫ হাজার কোটি টাকার স্কিম থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৪৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের দু’মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ সম্মানী প্রণোদনার ঘোষণা দেয়া হলেও এ খাতে কোনো অর্থ বিতরণ করা হয়নি।

করোনায় কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে বিতরণ বাকি আছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণের জন্য ৭৭০ কোটি টাকা প্রণোদনার পুরোটাই ব্যয় হয়েছে। এতে ১৮ লাখ গরিব মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য বরাদ্দকৃত ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজের ৩৭০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়নি।

গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শতভাগ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তার জন্য ৮১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকা। লক্ষ করা যাচ্ছে, যেসব প্যাকেজের আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হতে পারে, সেসব প্যাকেজের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় প্রণোদনা প্যাকেজের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের বিষয়ে আরও জোরালো তৎপরতা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

About STAR CHANNEL

Check Also

কালিয়াকৈরে দূর-দূরান্ত থেকে উড়ে আসছে অতিথি পাখি

শীত আগমনের সাথে সাথে কালিয়াকৈরে বিল-ঝিলে দেখা মিলছে অতিথি পাখির। এসব পাখির কলকাকলি ও সুন্দর্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *